Published : 13 Jul 2026, 07:14 PM
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র পারিবারিক বিবাদের জেরে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখা হয়। এই নৃশংস ঘটনাটি এতদিন চাপা ছিল, কিন্তু স্ত্রীর অভিযোগের ফলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ এই তথ্যের ভিত্তিতে উঠান খনন করে মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে খুলনা নগরের হরিণটানা এলাকায়। সোমবার দুপুরে মাটি খোঁড়ার সময় পুলিশ ওই ব্যক্তির দেহাবশেষ খুঁজে পায়। নিহত ব্যক্তির সঠিক পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বাড়ির মালিক (৩০) এবং তাঁর স্ত্রীকে (২২) বর্তমানে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল গত রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার আগে কেউ কিছু জানত না। পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে স্ত্রী থানায় এসে পুরো বিষয়টি জানান, যার ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় জানা যায়, নিহত ব্যক্তির একটি ইজিবাইক ছিল এবং ওই ব্যক্তি সেই ইজিবাইক নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ওই দম্পতি ইজিবাইকের চালককে হত্যা করে। এরপর স্বামী ওই ইজিবাইকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করে দেন। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল থেকে ইজিবাইকের নম্বর প্লেট পাওয়া গেছে, যা থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিবন্ধিত মালিক মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি প্রায় চার বছর আগে এটি বিক্রি করেছিলেন। নিহত ব্যক্তির নাম মারুফ বা অন্য কেউ হতে পারেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তির একটি পা অনুপস্থিত ছিল। স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করে জানান, ওই এলাকার আশেপাশে অনেক নির্জন জায়গা রয়েছে এবং ওই পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল না। শোনা যেত দম্পতির মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া হতো। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী যৌনকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই সংযোগের মাধ্যমেই কয়েক মাস আগে তিনি বাড়ির মালিকের সঙ্গে পরিচিত হন এবং পরে বিবাহ করেন। বিয়ের পরেও স্বামীর সহায়তায় তিনি আগের পেশায় যুক্ত ছিলেন।
নিহত ব্যক্তিকে বাড়িতে ডেকে এনে খাবারের সঙ্গে কিছু খাইয়ে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়। এরপর স্বামী-স্ত্রী মিলে তাঁকে গলা টিপে হত্যা করে এবং দেহটি বাড়ির সামনের উঠানে পুঁতে ফেলে দেয়। বাড়িটি যেহেতু নির্জন এলাকায় ছিল, তাই বিষয়টি কারও নজরে আসেনি। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডটি রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঘটেছিল এবং এতদিন বিষয়টি গোপন ছিল। পারিবারিক কলহের চরম পরিণতিতে স্ত্রী থানায় এসে বিষয়টি জানানোর পরই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত নয়। দেহাবশেষের বেশিরভাগ অংশ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ছাড়াও পিবিআই ও সিআইডি সদস্যরা তদন্তের কাজ করছেন।।
জিপিএ-৫ অর্জনকারী যমজ দুই ভাই: স্বপ্ন দেখেন বুয়েটে প্রকৌশলী হওয়ার, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে